ছেলের ডেডবডির সাথে আমাকে বিলের কাগজ ধরিয়ে দিয়েছে: আয়ানের বাবা

খৎনা করতে গিয়ে রাজধানীতে শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্টে রুল জারির পর গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন তার বাবা শামীম আহমেদ। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার ছেলে ভুল চিকিৎসার কারণে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে। রবিবার (১৪ জানুয়ারি) মিডিয়ার খবরে আমরা জানতে পেরেছি ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এটা হয়তোবা সাময়িক সময়ের জন্য। এধরনের হাসপাতালগুলোকে স্থায়ীভাবে সিলগালা করে দেয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, শিশু আয়ান মারা যাওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এখনও অভিযুক্ত পরিচালকসহ দুই চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়নি। শহরের প্রাণকেন্দ্রে ব্যাঙের ছাতার মতো হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। অথচ কেউ জানেই না এসব হাসপাতালের নিবন্ধন নেই। যখন আমি নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করলাম তখন নিবন্ধন নিয়ে টনক নড়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান আয়ানেরর বাবা।

ইউনাইটেড হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল বশির আহমেদ মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আয়ানের বাবা বলেন, হাসপাতালের বিল পরিশোধের জন্য তিনি ব্যাপক চাপ প্রযোগ করছেন। ছেলের ডেডবডির সাথে তারা বিলের কাগজ ধরিয়ে দিয়েছে। কতটা অমানবিক এবং খারাপ হলে তারা এমনটি করতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ ডিসেম্বর সুন্নতে খৎনা করাতে সাতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর একটি বেসরকারি স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী শিশু আয়ানকে। এসময় তাকে ফুল অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে খৎনা করা হয়। তবে অনুমতি ছাড়াই ‘ফুল অ্যানেস্থেসিয়া’ (জেনারেল) দিয়ে চিকিৎসক আয়ানের খৎনা করান বলে অভিযোগ করে আয়ানের পরিবার।

পরে অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পরও জ্ঞান না ফিরলে আয়ানকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার পিআইসিইউতে ৮ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে আয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পরদিন রূপগঞ্জে তাকে দাফন করা হয়।

Next Post Previous Post