চিকিৎসকেরদের কম্পাউন্ডার বা ফার্মাসিস্ট : ডা. শিপলু

চিকিৎসকেরদের কম্পাউন্ডার বা ফার্মাসিস্ট!

কম্পাউন্ডার (ডাক্তারের সহায়ক; যিনি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ঔষধ প্রস্তুত করেন)।

কম্পাউন্ডারদের কর্তব্য হলো চিকিৎসকদের সহায়তা করা৷ ভারতে কম্পাউন্ডারদের নিয়োগ করা হয় যারা স্টেট কাউন্সিল দ্বারা পরিচালিত ফার্মাসিস্ট কোর্সে পাস করেছে। 

সেই কোন যুগে মিকচার প্রথায় চিকিৎসা দেওয়া হতো সেখান থেকেই সরকারি ডিসপেনসারিগুলোতে কম্পাউন্ডার পদের সৃষ্টি।  compounder ও dispensary শব্দদ্বয় সমার্থক। যে স্থানে বা রুমে ঔষধ তৈরি করে রোগীকে দেওয়া হয় সেটাই  dispensary আর যিনি ঔষধ নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে রোগীকে দেন তিনিই তো Compounder. তাহলে বাসি যুগের পদ, পদবি, পরিচিতি বহাল রাখা আমাদের কর্তৃপক্ষের চিন্তা চেতনার দৈন্য প্রমাণ করে না কি?

সাধারণত ডাক্তারের সঙ্গে যিনি সহযোগী হিসেবে কাজ করেন তাকে কম্পাউন্ডার বলা হয়ে থাকে এবং বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ রয়েছেন যারা ডাক্তারের সাথে সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করে থাকেন। তবে বর্তমান সময়ে চিকিৎসা সেবায় বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আসার কারণে এই কম্পাউন্ডার বিষয়টি উঠে যাওয়ার পর্যায় চলেছে। ডাক্তারের সহায়তাকারী হিসেবে আপনারা যদি কাউকে মনে করে থাকেন তাহলে অনেক সময় ডাক্তারের সঙ্গে নার্স এরা কাজ করে থাকেন এবং তাদেরকে অনেকে কম্পাউন্ডার বলে বিবেচিত করে থাকেন। কিন্তু নার্স সম্পূর্ণ আলাদা একটি টার্ম অথবা নার্স সম্পূর্ণ আলাদা একটা পেশার নাম। সময় সাপেক্ষে অথবা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে অনেক সময় ডাক্তারদের নার্সেরা সহায়তা প্রদান করে থাকে এবং এক্ষেত্রে তাদেরকে কম্পিউটার বলা যাবে না। তাই কম্পাউন্ডার হলো সেই ব্যক্তি যিনি ডাক্তারের সঙ্গে সব সময় থাকেন এবং ডাক্তার যে ধরনের চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থাপত্র তৈরি করেন অথবা প্রেসক্রিপশন তৈরি করেন সেই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ তৈরি করা হলো তার প্রধান কাজ। এক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে এ ধরনের সিস্টেম বন্ধ হওয়ার উপক্রম বলে এই টার্ম উঠে যেতে চলেছে। আগের দিনে যখন গ্রামে গ্রামে ডাক্তারেরা তাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করত তখন সেই ডাক্তারের সঙ্গে একজন ব্যক্তিকে রাখা হতো যিনি ডাক্তারের চিকিৎসা পত্র অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র দেখে নিয়ে সে অনুযায়ী ওষুধ প্রস্তুত করতো এবং এক্ষেত্রে অনেক সময় হোমিওপ্যাথি অথবা অ্যালোপ্যাথিক সিস্টেমে কাজগুলো চলত। বর্তমান কম্পাউন্ডার এর পরিবর্তে ফার্মাসিস্ট পদ চলে এসেছে। রোগীরা ফার্মেসী হতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী রোগীকে ফার্মাসিস্ট ঔষধ প্রদান করে থাকে।

(মতামত)

========================

লেখক পরিচিতি :

ডা. মো. আব্দুস সালাম (শিপলু)

ডিএইচএমএস (রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ)

এমএসএস (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ) এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

(চিকিৎসক, শিক্ষক, কলামিস্ট, কেন্দ্রীয় চিকিৎসক নেতা ও শিক্ষক নেতা, প্রাক্তন সাংবাদিক) বাংলাদেশ।

৩১ আগস্ট ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।

Next Post Previous Post